স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা

আইসিইউ বাণিজ্য ও চিকিৎসা অমানবিকতায় কষ্ট পাচ্ছে গরীব-দুঃখী মানুষ-রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা

দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধা খুবই অপ্রতুল। ক্ষমতাবান বা বিত্তশালী পরিবার অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাব খাটিয়ে বা অনৈতিকভাবে সরকারি আইসিইউ সুবিধা নিতে পারে, যা গরীব,দুখী ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কোনো আবেগ বা মানবতা এক্ষেত্রে তেমন কোনো কাজে লাগে না। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালেও বিত্তশালীরা আইসিইউ সাপোর্ট কাজে লাগাতে পারলেও সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। তাতে রুগীর অবস্থা যেমন জটিল হয়, তেমনি মারা যায় অনেক রুগী। এছাড়া ‘সিট খালী নেই’ মিথ্যে অযুহাতে সরকারি হাসপাতালকে নিরুৎসাহিত করে প্রাইভেট ক্লিনিকে রুগী টেনে নিতে কিছু অসাধু চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগী দালাল চক্র সদা তৎপর থাকে। এদের কারণে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

আইসিইউতে উত্তম সেবার পরিবর্তে রুগীর প্রতি নির্দয় আচরণ, খামখেয়ালীপনা আর অযত্ন-অবহেলা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তাছাড়া, রুগীর অবস্থা খারাপ থাকলেও আইসিইউ থেকে জোর করে বা কৌশলে বের করে নতুন রুগী ঢুকিয়ে অনৈতিকভাবে পকেট ভারী করার ধান্ধায় থাকে সরকারি হাসপাতালের কর্মী/ দায়িত্বরতদের অনেকেই। অপরদিকে বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই আইসিইউ সেবার নামে বিল ডাকাতি করা হয়। এছাড়া, অমানবিকভাবে দিনের পর দিন মৃত ব্যক্তিকে আইসিইউতে আটকে রেখে বিপুল পরিমানে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কথাও হরহামেশাই শোনা যায়। অনেক প্রাইভেট ক্লিনিকই মানুষ মারার (অর্থের দিক দিয়ে) কারখানায় পরিনত হয়েছে।

বিভিন্ন সেক্টরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সরকারি চেষ্টা ও বিপুল বাজেট ব্যয়ের পরেও চিকিৎসা সেবায় আস্থা এখনো ফিরে আসে নি। ফলে চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা একটুও কমছে না। এ খাতে দেশের বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ায় অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। সরকারের স্বদিচ্ছা ও স্বাস্থ্য খাতের বিপুল বাজেট এ মহাবিপদে অনেক ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারছে না। মনে হয় এদেশে খুব কম পরিবারই আছে যারা চিকিৎসা নিয়ে নির্মম/অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন নাই।

মাছ-মাংশ, ফলমূল ও খাদ্যদ্রব্য ভেজালে ভরে গেছে; ঘরে ঘরে জটিল জটিল রোগ-বালাই লেগেই আছে। ফলে, মানুষকে ভাত-মাছের চেয়ে ওষুধ বেশী খেতে হয়; পরিবারের দৈনন্দিন চিকিৎসা খরচ মেটাতে আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে। মানুষ কুলিয়ে উঠতে পারছে না; মানুষ অসহায়।

দেশের জনগনকে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে জেলা উপজেলা পর্যায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্বলিত বিপুল সংখ্যক মানসম্পন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্মান করা অতীব জরুরী। এক সাক্ষাৎকারে জনস্বার্থে এসব কথা বলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, গজারিয়া উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button